রেশনে চালের বরাদ্দ বাড়াতে কেন্দ্রকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর, গম বাড়ানোর প্রস্তাবে খরচের প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যের ছয় কোটি রেশন গ্রাহকের জন্য আরও বেশি পরিমাণে চাল বরাদ্দের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র আওতাভুক্ত এই উপভোক্তাদের জন্য খাদ্য বরাদ্দের বর্তমান কাঠামো বদলানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বর্তমান ব্যবস্থা ও নতুন প্রস্তাব
বর্তমান নিয়মে অন্ন যোজনার অধীনে এসপিএইচ শ্রেণির রেশন গ্রাহকেরা মাসে জনপ্রতি ২ কেজি চাল এবং ৩ কেজি গম পান। অন্যদিকে অন্ত্যোদয় শ্রেণির পরিবারগুলিকে মাসে পরিবারপিছু ২০ কেজি গম ও ১৫ কেজি চাল দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব, এই অনুপাত উল্টে দেওয়া হোক। অর্থাৎ এসপিএইচ গ্রাহকেরা পাবেন ৩ কেজি চাল ও ২ কেজি গম, আর অন্ত্যোদয় পরিবারগুলি পাবে ২০ কেজি চাল ও ১৫ কেজি গম। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যে ব্যবস্থা চালু ছিল, সেটিই ফিরিয়ে আনা হোক।
চাষিদের স্বার্থের যুক্তি
মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে জানিয়েছেন, রেশনের চাল রাজ্যের চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনে তৈরি করা হয়। ফলে রেশনে চালের বরাদ্দ বাড়লে রাজ্য সরকার আরও বেশি ধান কেনার সুযোগ পাবে, যা সরাসরি চাষিদের উপকারে আসবে।
চিঠিতে তিনি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন:
- গত মরসুমে রাজ্যে ধান উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ টন।
- রাজ্যে কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৭১ লক্ষ, যার মধ্যে ৯৬ শতাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি।
সরকারি উদ্যোগে বেশি ধান কেনা হলে এই চাষিরা অভাবী বিক্রির চাপ থেকে রেহাই পাবেন বলে তাঁর মত। এ ছাড়া অন্ন যোজনার গ্রাহকদের চালের চাহিদা অনুযায়ী এ বছর ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রাও ঠিক করেছে রাজ্য। রেশনে চালের চাহিদা বাড়লে চাষিদের থেকে আরও বেশি ধান কেনা সম্ভব হবে।
গম বাড়ানোর পথে কেন্দ্রের বাড়তি খরচ
তবে চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের বরাদ্দ বাড়ানোর পিছনে কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ কমানোর একটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ চালের তুলনায় গম উৎপাদনে খরচ কম।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক কেজি গম কমিয়ে সমপরিমাণ চাল বাড়াতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের বছরে অতিরিক্ত ৯৭৭ কোটি টাকা খরচ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে কেন্দ্র এই বাড়তি ব্যয় বহন করতে রাজি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
গমের চাহিদা নিয়ে রেশন ডিলারদের বক্তব্য
রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে গমের চাহিদা কিছুটা হলেও রয়েছে। তাঁদের অনুরোধ, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে এই গ্রাহকদের জন্য কম খরচে গম পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। উল্লেখ্য, রাজ্য প্রকল্পের ২ কোটি ৭০ লক্ষ উপভোক্তা বর্তমানে রেশনে শুধু চালই পান।
আপনি চাইলে আমি লেখাটি আরও সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারি, অথবা ফেসবুক/ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা শিরোনাম ও সারসংক্ষেপ বানিয়ে দিতে পারি।

