Posted in

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী – দরিদ্রতা থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী
এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী – দরিদ্রতা থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী আমাদের শেখায় যে জীবনে বড় হতে হলে দারিদ্র্য বা বাধা কোনো সমস্যা নয়। কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডক্টর আব্দুল কালাম ছিলেন এমনই একজন মানুষ, যিনি সারা জীবন দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করেছেন।


জন্ম ও শৈশব জীবন

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী শুরু হয় ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর। তিনি ভারতের তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম শহরে একটি দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবার নাম ছিল জয়নুল আবেদিন এবং মায়ের নাম ছিল আশিয়াম্মা। তার বাবা নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ছোটবেলায় তাদের পরিবার খুবই কষ্টে দিন কাটাত।

মাত্র ৬ বছর বয়সে এক ভয়ংকর ঝড়ে তার বাবার নৌকা ভেঙে যায়। তখন থেকেই ছোট্ট কালাম বুঝতে পারেন—
শিক্ষাই হলো দারিদ্র্য দূর করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।


১০ বছর বয়সে কাজ শুরু

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো তার ছোটবেলার সংগ্রাম। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সাহায্যের জন্য কাজ শুরু করেন।

তিনি প্রতিদিন ভোরে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ বিলি করতেন।

এই কাজের মাধ্যমে তিনি—

  • নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন
  • পরিবারের আর্থিক সাহায্য করতেন

স্কুলে তিনি সাধারণ ছাত্র হলেও গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে খুবই মেধাবী ছিলেন।


উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্ন

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী আমাদের জানায় যে তিনি ছোটবেলা থেকেই বড় স্বপ্ন দেখতেন। তিনি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়ন করেন।

তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল—
ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের পাইলট হওয়া।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। এই ব্যর্থতা তাকে কষ্ট দিলেও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং নতুন পথ খুঁজে নেন।

মুঘল সম্রাটদের তালিকা – ১৫২৬ থেকে ১৮৫৭ পর্যন্ত সকল মুঘল শাসকদের সম্পূর্ণ ইতিহাস


বিজ্ঞানী হিসেবে নতুন পথচলা

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী-তে দেখা যায়, ১৯৫৮ সালে তিনি মাত্র ২৫০ টাকা বেতনে একটি সরকারি চাকরি শুরু করেন।

এই ছোট চাকরি থেকেই তার বড় সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়। তিনি কঠোর পরিশ্রম ও গবেষণার মাধ্যমে ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তিনি সবসময় বলতেন—
“স্বপ্ন সেটাই, যা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না।”


মিসাইল ম্যান হিসেবে সাফল্য

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী-এর সবচেয়ে গর্বের অধ্যায় হলো তার বিজ্ঞানী হিসেবে সাফল্য। তিনি ভারতের জন্য শক্তিশালী মিসাইল তৈরি করেন, যেমন—

  • অগ্নি মিসাইল
  • পৃথিবী মিসাইল

এই সাফল্যের জন্য তাকে বলা হয়—
“মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া”

তার নেতৃত্বে ভারত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় অনেক এগিয়ে যায়।


রাষ্ট্রপতি হওয়ার গল্প

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী-তে আরেকটি বড় ঘটনা হলো তার রাষ্ট্রপতি হওয়া। ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তিনি ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তিনি খুব সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন।

একবার তিনি তার পুরোনো পরিচিত একজন মুচি এবং একজন ছোট হোটেলের মালিককে রাষ্ট্রপতি ভবনে আমন্ত্রণ করে খাওয়ান। এই ঘটনা তার মানবিকতা ও বিনয় প্রকাশ করে।


শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী আমাদের শেখায় যে তিনি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন।

একবার তিনি তার নিজের গাড়ির ড্রাইভারকে পড়াশোনা করতে উৎসাহ দেন। তার সাহায্যে সেই ড্রাইভার—

  • মাধ্যমিক পাশ করেন
  • কলেজে ভর্তি হন
  • পরে একজন ইতিহাসের অধ্যাপক হন

এটি প্রমাণ করে, তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানী নয়, একজন মহান শিক্ষকও ছিলেন।


মৃত্যু ও শেষ বার্তা

এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী-এর শেষ অধ্যায় ঘটে ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই। সেদিন তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি শিক্ষা ও জ্ঞান ছড়িয়ে গেছেন।

মৃত্যুর আগে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন—

“আমার মৃত্যুদিনটাকে কখনো ছুটি ঘোষণা করো না।
যদি আমাকে সম্মান জানাতে চাও,
তাহলে সেই দিন অতিরিক্ত কাজ করো এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাও।”


উপসংহার

সবশেষে বলা যায়, এ পি জে আব্দুল কালাম জীবনী আমাদের জীবনের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।

তার জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি—

  • দারিদ্র্য কখনো বাধা নয়
  • ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়
  • কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষা সফলতার চাবিকাঠি

তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না,
তিনি ছিলেন একজন মহান বিজ্ঞানী, শিক্ষক এবং কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। ⭐

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *